সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলেন, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে: ইলিয়াস কাঞ্চন

:: সিলেট ব্যুরো ::
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইন সঠিকভাবে মেনে চলেন, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আর যদি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেই আসে, তাহলে আইনে জরিমানার ভয় কিসের? আপনি অপরাধ করলে আপনার জেল–জরিমানা হবে। আপনি যদি অপরাধ না করেন, তাহলে কেন আপনার জেল জরিমানা হবে?

সোমবার (৫ জুন, ২০২৩) সকাল ১০টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি নিজেও গাড়ি চালাই। আমি যদি কোনো অপরাধ করি এই আইনে আমারও শাস্তি হবে।

উপস্থিত চালকদের মাঝে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমি যদি চালকদের ক্ষতি চাইতাম, আমি কি নিজে কখনো গাড়ি চালাতাম? আমি নিজেও তো একজন চালক। তাহলে কি আমি আমার ফাঁসি চাই?

আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নিসচা’র ‘যত গতি, তত ক্ষতি’ শীর্ষক সচেনতামূলক ক্যাম্পেইনে কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হক কামালের সভাপতিত্বে ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশুর সঞ্চালনায় প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথির সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট ইমরুল আহসান।

পাবলিক রিঅ্যাকশনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ২০১৮ সালের আইন নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমি সবসময় আপনাদের পক্ষে নিরাপদ সড়কের পক্ষে কাজ করে চলেছি। আমি সরকারের কাছে ১১১টি সুপারিশ করেছি। এরমধ্যে আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা সেবাসহ নানা বিষয় রয়েছে। আপনারা সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের যে দাবী করেছেন এটাও আমার সুপারিশে রয়েছে। এছাড়া আমি প্রতি ত্রিশ কিলোমিটার অন্তর অন্তর কোমা সেন্টার স্থাপনেরও দাবী করেছি।

খ্যাতনামা নায়ক বলেন, আমি একজন চলচ্চিত্র নায়ক। আমার সিনেমায় যেমন আমি ভিলেন পেয়েছি। তেমনি ভাবে বাস্তব জীবনে সামাজিক আন্দোলন করতে গিয়েও আমি ভিলেন পেয়েছি। “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮” নিয়ে চালকদের মাঝে যে অপপ্রচারটি রয়েছে যে, আমি চালকদের ফাঁসি চাই, আমি চালকদের ঘাতক বলি। আমি চালকদের ফাঁসিতে ঝুলানোর জন্যই এই আইনের প্রস্তাব করেছি। আসলে বাস্তবতা হলো এগুলো কোনটাই সত্যি না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং গুজব।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, প্রতীক্ষার পর বিভিন্ন মহলের মতামত, অনেক গবেষণা ও ব্যাপক আকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সবাই পেয়েছে “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮”। কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন নয়। এই আইনে উল্লেখ আছে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে কাউকে হত্যা করে। তাহলে তাকে এই আইনে নয় অন্য আইনে নিয়ে তদন্ত করে। তদন্তে যদি প্রমানিত হয় এরপর যারা জরিত তাদের শাস্তি দেয়া হবে। এই আইনে বলা হয়েছে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষ। একটি দুর্ঘটনা ঘটলে তদন্ত করা হবে তদন্তের পর যারা দায়ী হিসেবে প্রমানিত হবে তাদেরই শাস্তি হবে। মূলত শ্রমিকদেরকে এই আইন সম্পর্কে সকল তথ্য তুলে ধরে তাদের সঠিকভাবে বুঝানো হয়না বলে। তাই কেউ কেউ সঠিক তথ্যের বদলে মিথ্যা অপপ্রচার গুজব রটিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে আজ আমাকে আপনাদের সামনে শত্রু বানানোর একটা অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট ওসমানীনগর উপজেলার চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ভিপি, সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম, এসএমপির এসি ট্রাফিক আতাহারুল ইসলাম, বিআরটিএর সিলেটের উপ পরিচালক মো. শহিদুল আযম, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, জেলা পুলিশের ডিআইও মো. নুরুল ইসলাম, সিলেট জেলা বাস মিনি বাস কোচ ও মাইক্রোবাস এসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি ময়নুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মুহিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, নিসচা সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি এম ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাবেল প্রমুখ।

সিলেট/ অমিতা সিনহা/ ৫ জুন ২০২৩


আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভার্চুয়াল মতামত ও অন্যান্য ভিডিও পাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।


Public Reaction একটি মতামতভিত্তিক সাইট।
মূলধারার সংবাদ এবং মতামত, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতাসহ সৃজনশীল লেখা প্রকাশের একটি মুক্তমাধ্যম এটি। লিখুন আপনিও।
ইমেইল: opinion2mail@gmail.com, info@publicreaction.net