বন্যা হতে পারে দেশের তিন জেলায়

:: পা.রি. রিপোর্ট ::
প্রকাশ: ১২ মাস আগে
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে যায় ঢাকার রাজপথ। শনিবার বিকেলে গ্রিন রোড থেকে তোলা। সংগৃহীত ছবি

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছুদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে অতিভারি বৃষ্টি হচ্ছে। আরো দুই দিন (সোমবার ও মঙ্গলবার) বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশে সপ্তাহজুড়ে কমবেশি বৃষ্টি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ভারি বৃষ্টি আরো দুই দিন, তিন জেলায় বন্যার শঙ্কাআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রবিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এই মুহূর্তে দেশের ওপরের (উত্তরের) দিকের অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টি বেশি। তবে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বৃষ্টি কিছুটা কম। শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে এ আবহাওয়াবিদ জানান।
এর মধ্যে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তই হয়েছে ৭৪ মিলিমিটার। রবি ও সোমবারও ঢাকায় বৃষ্টিপাতের একই রকম প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৪ জুলাইয়ের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে। আগামী এক সপ্তাহ ঢাকায় কমবেশি বৃষ্টিপাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে।
সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তত্সংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে এই সময়ে এ অঞ্চলের সুরমা, যদুকাটা, সারিগোয়াইন ও সোমেশ্বরী নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার কিছু কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া শনিবার বিকেলে বলেন, শুক্রবার সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এসব এলাকায় পানি বাড়তে পারে। এতে বৃহত্তর সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে স্বল্প সময়ের জন্য। তবে ৪৮ ঘণ্টা পর এসব এলাকা থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।
এ ছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতের বেলা পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আবার নেমে গেছে বলে জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে এখানে পানি কমছে, ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ২৪ ঘণ্টা পর আবার বাড়তে পারে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৪টি স্টেশনের ৩৫টিতে বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে, ১৩৭ মিলিমিটার। এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯৪ মিলিমিটার, ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৭৪ মিলিমিটার এবং টাঙ্গাইলে ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জে পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
বর্ষার পানিতে সুনামগঞ্জের হাওর ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট উজানের ঢল ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। শনিবার দুপুরে তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের সূত্রখলা এলাকার প্রায় ২০০ গজ রাস্তা ডুবে যায়। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি যাওয়ার জন্য সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ গবেষণা করে প্রায় দেড় দশক আগে এই ডুবন্ত রাস্তা করেছিল।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচে আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৪৫ মিলিমিটার। তবে ওই সময়ে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২২০ মিলিমিটার।
এদিকে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা তিন দিনের ভারিবর্ষণে সোমেশ্বরী, উব্দাখালী নদী ও মনাই নদীর পানি বাড়ছে। এতে এই অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার চামরদানী, বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও মধ্যনগর মহিষখলা সড়কের নিচু অংশ তলিয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। তিন দিনে পানি বেড়েছে দুই ফুটের মতো।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘টানা ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’
এদিকে মধ্যনগরে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের বাংলাবাজারসংলগ্ন স্থানে ওই শিশুর লাশ ভেসে ওঠে। শিশুটির নাম নাঈম (১১)। শিশুটি পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার অতীতপুর গ্রামের রেহান মিয়ার ছেলে। ঈদুল আজহার আগে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে চামরদানী গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।