পুলিশ সদস্যের ‘মাথা ফাটিয়ে’ কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা

:: পা.রি. ডেস্ক | পাবলিকরিঅ্যাকশন.নেট
প্রকাশ: ১০ মাস আগে
ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠিতে তুচ্ছ কারণে পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে মাথা ফাটানোর অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রুহুল আমীন ওরফে সায়মনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আজ শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জেলা পুলিশ লাইনস ও জেলা পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য মো. আলাউদ্দিনকে (৩২) প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও গুরুতর অবস্থায় পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলাউদ্দিন জেলা পুলিশের যানবাহন শাখায় কর্মরত। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রুহুল আমীন ওরফে সায়মনকে (২৮) পুলিশ রাতে আটক করেছে। সে শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার আ. খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় আলাউদ্দিন ও আকরাম হোসেন নামে দুই পুলিশ সদস্য জেলা পরিষদের সামনে নাস্তা খাচ্ছিলেন। খাবারে লবণ কম হওয়া নিয়ে দোকানদারের সাথে পুলিশ সদস্য আলাউদ্দিনের তর্ক হয়। সেখানে উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি রুহুল আমীন সায়মন চা দোকানির পক্ষ নিয়ে পুলিশ সদস্য দুজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করে।

একপর্যায়ে সায়মন দোকানে থাকা জ্বালানি কাঠ উঠিয়ে সরাসরি পুলিশ সদস্য আলাউদ্দিনের মাথায় আঘাত করে। এতে তাঁর মাথায় জখম হয়। এ সময় তাকে অন্য পুলিশ সদস্য আকরামসহ স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাতেই তাঁকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ রাতেই কৃষ্ণকাঠি এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা রুহুল আমীন সায়মনকে আটক করে।

এ ঘটনায় জেলা পুলিশ লাইনস এর কনস্টেবল আকরাম হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগ নেতা সায়মনকে আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট, সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার সায়মনকে আদালতে তোলা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই সাখাওয়াত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাই ছাত্রলীগের সহসভাপতি রুহুল আমীন ওরফে সায়মনের আটকের প্রকৃত কারণ জানতে পারিনি। তবে এ ব্যাপারে মামলার কপি হাতে পেয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঝালকাটি সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার আসামিকে রাতেই আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।