জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির মধ্যে সিসিক প্রার্থীদের শেষ মুর্হুতে প্রচারণা

:: অমিতা সিনহা ::
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

আর এক দিন পর ২০২৩ সালের সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। আজ রাত ১২টার মধ্যে শেষ হবে অন্তিম প্রচার-প্রচারণা। তাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থীরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রচারণায় কোনো কালক্ষেপন করছেন না।

মেয়র, সাধারন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা যে যার মতো মাঠে নেমেছে স্বজন ও নিজের কর্মীদের নিয়ে। সিলেট মহানগর জুড়ে মাইকে মাইকে সুর উঠেছে ‘নৌকা মার্কায় ভোট চাই, মা-বাবা-ভাই- বোনদের বলে যায়’। এমনি সুর- স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের চৌরাস্তা, পাড়া-মহল্লা আর দোকারপাটের ব্যবসার ঘরগুলোতে।

প্রার্থীরা দলে দলে এলাকার রাস্তাসহ প্রধান প্রধান রাস্তায় নির্বাচনী মিছিল-গণসংযোগ করে যাচ্ছে। মাথার উপর টিপ টিপ বৃষ্টি, হাতে লিফলেট নিয়ে হাটু সমান পানিতে গণ সংযোগ করে যাচ্ছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ছোটদের ভালোবাসা , বড়দের দোয়া-আর্শীবাদ নিয়ে ভোট চাইছেন আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের।

নির্বাচনের শেষ মুর্হুতের আগে যার যার অবস্থান থেকে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হানিফ কুটুসহ অনেক সাধারণ কাউন্সিলর নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় প্রার্থীরা সিসিক নির্বাচনে নির্বাচিত হলে কি কি কাজ বাস্তবায়ন করবেন আগামী পাঁচ বছরে তা তুলে ধরেন। কেউ ২১দফা , কেউ ১১দফা এমনি অঙ্গীকার তুলে ধরণে সংবাদ সম্মেলনে। ভোটারদের কিভাবে নিজেদের আপন করে নিতে হয় তারও নানা কৌশল করে যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলো। নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

দেশের বড় দল আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান তার দলের বড় বড় নেতাদের হাত ধরে মাঠে নেমেছেন বৃষ্টি বাদলের দিনেও। যদিও তিনি ফাঁকা মাঠে গোল দেবে বলে নিশ্চিত। তবুও তিনি শঙ্কায় আছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হানিফ কুটুকে নিয়ে। আরেক দিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল আতঙ্কে আছেন তার প্রতিদ্বন্দ্ব মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে।

একদিকে সরকারি দল। আরেক দিকে দেশের সবচেয়ে বড় দল বলে। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনেক লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। যার ফলে সর্বদায় আতঙ্কে আছেন মেয়র প্রার্থী নজরুল। তিনি দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেষ সময়ে এসেও। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন বহিরাগতদের শহরে এনে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

গত শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয় এই যে, সিলেটের মুরারী চাঁদ কলেজ ও সিলেট সরকারি কলেজের হোস্টেল ভোটের সময় বন্ধ রাখতে হবে, যাতে বহিরাগতরা সেখানে অবস্থান করতে না পারে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচারণায় যোগ দিতে দেশের অন্য এলাকায় থেকে দলের নেতাকর্মীরা এসে ভিড় করছেন সিলেটে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিলেটে প্রচারণা শুরু করেছে। আনোয়ারুজ্জামানের পক্ষে সিলেটের রাজপথে দেখা গেছে প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সার্বক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও নগরীতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সম্পাদক আনোয়রুজ্জামানের পক্ষে প্রচারণা চালাতে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ থেকে সিলেটে এসেছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে সিলেটের মহিলা অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন শেষ মুর্হুতের প্রচারণায় নৌকার মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। রাজ পথে পাড়া মহল্লায় ওরা মিছিল ও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। সোমবার শেষ মুর্হুতের সমাবেশ করেছে সিলেট শহরের রিকাবীবাজারে লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর সমাবেশ হয়েছে। অপর দিকে একী সময় বন্দরবাজারের রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশ হয়েছে নৌকার প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর । ২৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাংবাদিক মঈন উদ্দিন বলেন, ৪/৫দিন যাবত অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। বন্যার শঙ্কা তো অবশ্যই রয়েছে। নির্বাচনের দিন যদি বৃষ্টিবাদল দেখা দেয় তবে কিভাবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে শঙ্কিত।

তবে এবার সাধারণ কাউন্সিলর পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে জানান সিলেটের সচেতন মহলের ভোটাররা। অন্যদিকে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উন্নয়নের দ্বারা অব্যাহত রাখতে চাই। তারাও চেলেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে। করছে গণসংযোগ ও সমাবেশ। এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২৩সনের নির্বাচনে নতুন ১৫টি ওয়ার্ড যোগ হয়েছে। যার দরুন এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪২টি ওয়ার্ডের নির্বাচন হবে। এর মধ্যে সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৪টি। সিসিক নির্বাচনে ৮জন মেয়র প্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ২৭জন আর সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ৮৭জন। এবার ১৯০টি ভোট কেন্দ্রে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৩২টি কেন্দ্র বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।

আসছে বুধবার প্রথমবার সিসিক নির্বাচনের ১৯০ কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৬৪ কক্ষে ইভিএম মেশিনে ভোট হবে। সিলেট মহানগরীতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তরভ’ক্ত ভোটার আছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ জন।

 

সিলেট/ অমিতা সিনহা/ ১৯ জুন, ২০২৩।