অপরাধ প্রমাণ হলে যে সাজা হতে পারে তারেক-জোবায়দার

:: পা.রি. রিপোর্ট ::
প্রকাশ: ১১ মাস আগে
সংগৃহীত ছবি

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২)/২৭(১) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২৬(২) ধারায় সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং ২৭(১) ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি রয়েছে। সহযোগী হিসেবে ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। সেক্ষেত্রে সহযোগী হিসেবে একই পরিমাণ অর্থাৎ ১৩ বছরের সাজা হতে পারে জোবায়দা রহমানের।

দুদক কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। আশা করছি আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ ১৩ বছর সাজাই হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর রায়ের জন্য আদালত এ দিন ধার্য করেন।

গত ২৪ জুলাই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওইদিন সবশেষ সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। মামলাটিতে মোট ৫৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

গত ১৩ এপ্রিল এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। এরপর গত ২১ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন আদালতে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ জহুরুল হুদা।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, জোবায়দা রহমান ও তার মা অর্থাৎ তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়।

২০০৮ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপরই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন জোবায়দা। ওই বছরই এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

গত বছর এই মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে রুল খারিজ করেন হাইকোর্ট।